ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৪ - ৪:০৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

ফোন মস্তিষ্ককে যেভাবে বদলে দিচ্ছে, গবেষণায় জানা গেল

  • জাগো নিউজ ডট নেট
  • আপডেট: Tuesday, October 3, 2023 - 11:50 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 73 বার

প্রযুক্তি: প্রয়োজন না থাকলেও অনেকেই মোবাইল ফোন চেক করার তাগিদ অনুভব করেন। প্রতি বছরই এই ডিভাইসগুলোর উপর মানুষের সার্বিক নির্ভরতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন তাদের মোবাইল ফোন গড়ে চেক করেন ৩৪৪ বার। প্রতি চার মিনিটে একবার এই হিসেবে দৈনিক এই ডিভাইসটির সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করে। আমাদের অনেকের মধ্যে দেখা যায় যে, ইমেল বা সামাজিক মাধ্যমের ফিডগুলোর দ্রুত মোবাইল থেকে চেক করে নেয়। তবে এই কাজের ফাঁকে অনেকে অকারণে স্ক্রোলিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এটি একটি দুষ্ট চক্র। মোবাইল ফোনগুলো আমাদের দৈনন্দিন কাজে যত বেশি কার্যকরী হয়ে উঠে, আমরা তত বেশি এটিকে ব্যবহার করি। আমরা যত বেশি এগুলো ব্যবহার করি, তত বেশি আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের স্নায়বিক সংকেত দেয় যা আমাদের ফোনকে বেশি বেশি হাতে নেয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।

এতে করে প্রয়োজন না থাকলেও আমরা আমাদের ফোন চেক করার একটি তাগিদ অনুভব করি। সেই সঙ্গে প্রতি বছরই এই ডিভাইসগুলোর উপর আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে। তাই এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।

গবেষণায় দেখা গেছে একসঙ্গে একাধিক কাজ (মাল্টিটাস্কিং) আমাদের স্মৃতিশক্তি এবং কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে টেক্সট করা নয়, কেবলমাত্র ফোনে কথা বলার সময় চালকদের প্রতিক্রিয়ার গতি কমে যায়। দৈনন্দিন কাজের মাঝে মোবাইলে ম্যাসেজ আসার ডিং শব্দও আমাদের মনোযোগে বাধা সৃষ্টি করে।

মোবাইল ফোন নিরাপদ জায়গায় আছে কিনা তা নিয়ে মন সব সময় শঙ্কিত থাকে। মোবাইল হারানো ভয় থেকে মনের মধ্যে জন্ম নেয় এক ধরণের মানসিক চাপ। গবেষকেরা মোবাইল ফোনের সঙ্গে যোগাযোগ হারানোর এই ভয়জনিত অসুখের নাম দিয়েছেন ‘নোমোফোবিয়া’। যুক্তরাজ্যের ৫৩ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ ভারতীয় তরুণরা এ রোগের শিকার।

মোবাইলে অতিরিক্ত সময় বার্তা পাঠানো, চ্যাটিং করার প্রভাব পড়ে ঘুমের মধ্যেও। এতে হতে পারে ‘স্লিপ টেক্সটিং’ সমস্যা। এতে রাতে ঘুমের মধ্যে কাকে কী বার্তা পাঠানো হয় তা আর পরে মনে করতে না পারা।

বার্তা পাঠানোর বিষয়টি মাথায় থাকে বলে ঘুমের মধ্যেও হাতের কাছে থাকা মুঠোফোন থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত নম্বরে বার্তা চলে যায়। মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ আর মুঠোফোন নিয়ে অনেকের দিন কাটে। এমন অবস্থায় স্লিপ টেক্সটিং ঘটতে পারে। রাতে বিছানার পাশে মুঠোফোন না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারে দৃষ্টি বৈকল্য সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখের খুব কাছে রেখে অতিরিক্ত সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।