ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৪ - ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গরমে মরছে মুরগি, ক্ষতির মুখে খামারিরা

  • জাগো নিউজ ডট নেট
  • আপডেট: Monday, May 6, 2024 - 8:34 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 12 বার

অর্থনীতি : চলমান তীব্র দাবদাহে বিপাকে পড়েছেন দেশের পোলট্রি খামারিরা। ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোকের কারণে প্রতিদিন তাদের মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন দেশের প্রান্তিক খামারিরা।

এই পরিস্থিতিতে, ডিম ও মুরগি উৎপাদন ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীতে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার।

এই অবস্থা মোকাবিলায় এবং প্রান্তিক খামারিদের রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের খামারগুলো বিজ্ঞানসম্মত না হওয়ায় প্রচণ্ড দাবদাহ সহ্য করতে না পেরে মুরগিগুলো হিট স্ট্রোকে মারা যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া চলমান তাপপ্রবাহের ফলে হিট স্ট্রোকের কারণে সারা দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ মুরগি মারা যাচ্ছে যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২০ কোটি টাকা। ঈদের পর গত ১০ থেকে ১২ দিনে সারা দেশে ১০ লাখের বেশি ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি মুরগি মারা গেছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ছিল ব্রয়লার মুরগি এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ছিল লেয়ার মুরগি। এ ছাড়া সোনালিসহ অন্য মুরগি ৫ শতাংশ মারা গেছে।’

এ অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকলে খামারগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ডিম ও মুরগির উৎপাদন কমে যাবে। এতে সারা দেশের খামারিদের ক্ষতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে সুমন হাওলাদার দাবি করেন।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডিম, মুরগি সরবরাহকারীরা ডিম ও মুরগির কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুন থেকে তারা দাম বাড়াতে শুরু করবেন। আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডিম ও মুরগির দাম বেশি পরিমাণে বাড়তে পারে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের উচিত পোলট্রি খামারিদের রক্ষা করা। যেমন- সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি ফিডে ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখতে হবে এবং সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে হবে যাতে বাজারে সংকট সৃষ্টি না হয়।’

প্রান্তিক খামারিদের করপোরেট কোম্পানির জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে ডিম-মুরগির উৎপাদন ঠিক রাখতে মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি ফিড বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি দিলে প্রান্তিক খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে উল্লেখ করে সুমন হাওলাদার বলেন, ‘বিপিএর সারা দেশের খামারিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুরগির মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি নরসিংদীতে। এ অঞ্চলে গত ১২ দিনে প্রায় ৩ লাখ, ময়মনসিংহ, গাজীপুর অঞ্চলে ২ লাখ, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ লাখ ৭৫ হাজার, সিলেট অঞ্চলে ৫০ হাজার, যশোরে ১ লাখ ৫০ হাজার, পাবনায় ৫০ হাজার, চুয়াডাঙ্গায় ১ লাখ মুরগি মারা গেছে।’

পোলট্রি খামারিদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় তিনি বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এগুলো হলো- শেডে সঠিক বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, ধারণক্ষমতার মধ্যে কম মুরগি রাখা, পানিতে ভিটামিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার না করা, লেবু এবং আখের গুড় দিয়ে দুপুরে শরবতের ব্যবস্থা করা, মুরগির শরীরে পানি স্প্রে করা, শেডের ছাদে ভেজা পাটের ব্যাগ রাখা এবং নিয়মিত পানি ঢালা, দুপুরের মুরগিকে খাবার খাওয়ানো যাবে না।